ধর্ষণের জন্য পোষাক দায়ী নাকি ধর্ষক?
একজন মানুষের মেধা, রুচি, সৌন্দর্য, পোষাকের ধরণ, সেক্সিনেস ইত্যাদির সাথে পছন্দ- অপছন্দ, ভালোবাসা এবং যৌন আকর্ষণ অনুভব করার সম্পর্ক অবশ্যই আছে। প্রকৃতিগত কারণে নারী, পুরুষ, ইন্টারসেক্স সব মানুষই বিভিন্ন লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন এবং ব্যক্তিভেদে সেই আকর্ষণের মাত্রা ভিন্ন। একইভাবে সমাজ সংস্কৃতি দেশ সাপেক্ষেও আপেক্ষিক।
বাংলাদেশে যে পুরুষটি নারীদের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ ইত্যাদিতে দেখে অভ্যস্ত, তিনি হয়তো সৌদি আরবে আপাদমস্তক ঢাকা কোন নারীকে দেখে আকর্ষিত হন না, কিন্তু আমেরিকান শর্ট স্কার্ট পরা নারী দেখে উত্তেজিত হবেন। কিন্তু মিডল ইস্টের পুরুষরা একইসাথে আবায়া, শাড়ি এবং শর্ট স্কার্ট দেখে উত্তেজিত হবেন। আবার আমেরিকার কোন পুরুষ শুধু শর্ট স্কার্ট পরা দেখে আর্কষিত হবেন- কিংবা উল্টো।
আবার শুধু বাংলাদেশের ভেতরেও বেড়ে ওঠার ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ, এডুকেশনের কোয়ালিটি ও ধরণ, মাইন্ডসেট ইত্যাদির উপর নির্ভর করে যৌনরুচি ভিন্ন হতে পারে। এপর্যন্ত ঠিক আছে।
আকর্ষিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। না হওয়াটাই বরং ব্যতিক্রম। সমস্যাটা তখন হয়, যখন আপনি আকর্ষিত হন এবং সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। সভ্য সমাজে বাস করতে হলে আপনারও অন্যদের মত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। নয়তো অপরাধ করার আগেই বন-জঙ্গলে চলে যেতে হবে। আর করে ফেললে আপনাকে সমাজচ্যুত করে চৌদ্দ শিকের ভেতরে রাখা হবে। সিম্পল!
যৌন আকর্ষণের সাথে অবশ্যই পোষাকের সম্পর্ক আছে। শুধু পোষাক নয়, অনেককিছুর সাথেই আছে। আর ধর্ষণ কোন প্রকার যৌনতা না। ধর্ষণ হল ক্রাইম, যৌন সহিংসতা। হুট করে কেউ ধর্ষণ করতে পারে না। জোর করে যৌন সম্পর্ক করা যায় না। মেন্টাল অ্যাটাচমেন্ট অনেক বড় ব্যাপার। তাই উত্তেজিত হয়ে ধর্ষণ করে ফেলেছে- এইটা ফালতু কথা। একদিনেই কেউ ধর্ষক হয়ে ওঠে না। এর জন্য দীর্ঘসময়ের মানসিক প্রস্তুতি লাগে। যৌন মূল্যবোধ ও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব, ক্ষমতা লাগে।
তাই এই লেইম এক্সকিউজটা দিয়ে ধর্ষণকে জাস্টিফাই করা, ধর্ষককে সমর্থন করা, ভিক্টিম ব্লেমিং করা- এসব বন্ধ করুন। মস্তিষ্কে যে ধর্ষক, সে ধর্ষণ না করলেও ধর্ষক। ধর্ষণের সময় কোন নারীকে চ্যুজ করছে সেটা ধর্ষণের কারণ না। কাল চ্যুজ করার অপশন না থাকলে, সে আপনাকেও ধর্ষণ করবে। কারণ মস্তিষ্কে সে একজন ধর্ষক আর তার কাজ ধর্ষণ করা।

Comments
Post a Comment